ভারতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বড় আকারে ব্যবসায়িক চুক্তি বা ডিল সংখ্যায় নাটকীয় পতন দেখা গেছে। পরামর্শক সংস্থা গ্রান্ট থর্নটন ভারতের সর্বশেষ ডিলট্র্যাকার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে দেশটিতে মোট ৫৮২টি চুক্তি হয়েছে। এতে লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে। খবর দ্য হিন্দু।
ব্যবসায়িক চুক্তিতে তীব্র পতনের পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে গ্রান্ট থর্নটন ভারত। যার মধ্যে অন্যতম ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা।
প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসায়িক লেনদেনে এ সময় সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) খাত। এ বিভাগে মোট ১৯৭টি চুক্তির মূল্য ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর সর্বনিম্ন। পুরো প্রান্তিক মিলিয়ে বিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে এমন একটি চুক্তি হয়েছে। অথচ মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে চারটি চুক্তিতে বিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছিল।
গত প্রান্তিকে ভারতে সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল ইয়েস ব্যাংকে ১৫৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ করেছে সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং করপোরেশন।
তবে প্রাইভেট ইকুইটি খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এ খাতে ৩৫৭টি চুক্তিতে মোট ৭৪০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে, যা ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে আকারের দিক থেকে এটি জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ৮৯০ কোটি ডলারের তুলনায় কম। এ প্রান্তিকে দুটি নতুন ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব ঘটেছে ড্রুলস পেট ফুডস ও জেএসডব্লিউ ওয়ান প্লাটফর্ম।
জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ভারতের ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা খাত মোট ৭৩টি লেনদেনে ৪৫০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। এ খাতেই সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের চুক্তি হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা ও ভোক্তা পণ্য খাত চুক্তির সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও অর্থের হিসাবে ৭৮ শতাংশ কমেছে। মন্থর ছিল শেয়ারবাজারও, যেখানে ১২টি আইপিওর মাধ্যমে মাত্র ১৯০ কোটি ডলার সংগ্রহ হয়েছে।
গ্রান্ট থর্নটন আশা করছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ভূরাজনৈতিক চাপ কমে এলে এবং দেশীয় অর্থনৈতিক ভিত পুনরায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। এতে দেশটিতে ব্যবসায়িক চুক্তি কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হবে।